1. live@www.skymediabd.com : news online : news online
  2. info@www.skymediabd.com : স্কাই মিডিয়া বিডি :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ফেঞ্চুগঞ্জের পাঁচ ইউনিয়নের জনগণ আর অন্ধকারে থাকতে চায় না। প্রশ্ন: উন্নয়নের বরাদ্দ কোথায়, আর জনগণ কতটুকু সেবা পেয়েছে? বড়লেখায় সাংবাদিক আশফাক আহমেদের বাবার মৃত্যু, প্রেসক্লাবের শোক সাংবাদিকের কলম সত্য ও ন্যায়ের পক। কলম থামানো যায়, সত্য চাপা রাখা যায় না। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ! রাণীশংকৈলে নিজ বাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাজশাহীতে মাদক ও জুয়া দমনে অভিযান, জব্দ টাকা-মোটরসাইকেল-ফোন ফেঞ্চুগঞ্জে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের চাঁদা না দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করে অর্থ দাবির । লাগেজ চুরি বন্ধে বিমানবন্দরে লাইভ সিসিটিভির দাবি, আইনি নোটিশ শায়েস্তাগঞ্জে চাঁদাবাজি-টেন্ডার সিন্ডিকেট ও নির্যাতনের অভিযোগে আতঙ্কের নাম “নাঈম”

ফেঞ্চুগঞ্জের পাঁচ ইউনিয়নের জনগণ আর অন্ধকারে থাকতে চায় না। প্রশ্ন: উন্নয়নের বরাদ্দ কোথায়, আর জনগণ কতটুকু সেবা পেয়েছে?

ডেস্ক রিপোর্ট ::মো:মোস্তফা আনোয়ার (সম্পাদক ও প্রকাশ )ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট ।)
  • Update Time : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

চেয়ারম্যান হওয়ার আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। নির্বাচনের সময় কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১,০০০ টাকা হাতে ধরিয়ে ভোট চাইতে আসে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের জন্য কী কাজ করা হয়েছে, কোন খাতে কত বরাদ্দ এসেছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ কতটুকু উপকৃত হয়েছে—এসব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হয় না কেন?

 

ফেঞ্চুগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি, আপনারা যদি আবার নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাহলে আগে জনগণের সামনে আপনাদের দায়িত্ব পালনকালের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও উন্নয়নকাজের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করুন।

 

কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার প্রমাণসহ তদন্ত হওয়া উচিত। জনগণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জনগণের হক নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যায় না।

 

একজন চেয়ারম্যান জনগণের সেবক, ইউনিয়নকে নিজের সম্পত্তি মনে করার অধিকার তাঁর নেই।

আমরা সাধারণ জনগণ অনেকেই জানি না, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কী কী সরকারি ভাতা, সহায়তা, উন্নয়ন প্রকল্প ও নাগরিক সেবা দেওয়া হয়। কোন খাতে কত বরাদ্দ আসে, কারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সেবা পাচ্ছেন কি না—এসব তথ্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।

 

তাই প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সরকারি বরাদ্দ, প্রকল্প, ব্যয় ও সেবার তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা করা হোক। শুধু ব্যানার টাঙালেই হবে না; তথ্যগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে এবং জনগণের জন্য সহজলভ্য রাখতে হবে।

 

ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেওয়া বা সমন্বয় করা বিভিন্ন সরকারি সেবা ও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:

১. সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা
১. বয়স্ক ভাতা
২. বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা
৩. প্রতিবন্ধী ভাতা
৪. মাতৃত্বকালীন ও মা-শিশু সহায়তা
৫. দুস্থ নারী ও অসহায় মানুষের সহায়তা
৬. ভিজিডি (VGD)
৭. ভিজিএফ (VGF)
৮. হতদরিদ্র পরিবারের সহায়তা
৯. মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য সহায়তা
১০. অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সহায়তা
১১. শিশু ও দরিদ্র পরিবারের সহায়তা
১২. খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

২. কর্মসংস্থান ও খাদ্যসহায়তা
১৩. কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য)
১৪. কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা)
১৫. দুর্যোগ ও সংকটকালীন কর্মসংস্থান কর্মসূচি
১৬. টিআর (TR) কর্মসূচি
১৭. গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান
১৮. মৌসুমি কর্মসংস্থান
১৯. শ্রমিক নিয়োগভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প
২০. যুবকদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ সহায়তা

৩. গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন
২১. গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ
২২. রাস্তা সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ
২৩. সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ
২৪. ড্রেন নির্মাণ
২৫. বাজার ও হাট উন্নয়ন
২৬. ঘাট নির্মাণ ও সংস্কার
২৭. খাল খনন ও পুনঃখনন
২৮. পুকুর খনন
২৯. বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত
৩০. পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন
৩১. গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ

৪. পানি, স্যানিটেশন ও পরিবেশ
৩২. টিউবওয়েল স্থাপন
৩৩. গভীর নলকূপ স্থাপন
৩৪. নিরাপদ পানির ব্যবস্থা
৩৫. স্যানিটারি ল্যাট্রিন সহায়তা
৩৬. পাবলিক টয়লেট নির্মাণ
৩৭. পানি সংরক্ষণ
৩৮. ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন
৩৯. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
৪০. পরিচ্ছন্নতা অভিযান
৪১. বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন
৪২. পরিবেশ সংরক্ষণ

৫. শিক্ষা, নারী ও সামাজিক উন্নয়ন
৪৩. স্কুল মেরামত ও অবকাঠামোগত সহায়তা
৪৪. দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা
৪৫. উপবৃত্তি-সংক্রান্ত সহযোগিতা
৪৬. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ
৪৭. নারী ক্ষমতায়ন
৪৮. মাদকবিরোধী কার্যক্রম
৪৯. সচেতনতামূলক সভা
৫০. যুব উন্নয়ন
৫১. সাংস্কৃতিক কার্যক্রম
৫২. ক্রীড়া উন্নয়ন

৬. স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ
৫৩. স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম
৫৪. টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা
৫৫. মা ও শিশুস্বাস্থ্য
৫৬. পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা
৫৭. স্বাস্থ্য ক্যাম্পে সহযোগিতা
৫৮. পুষ্টি কর্মসূচি
৫৯. কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে সমন্বয়
৬০. স্যানিটেশন সচেতনতা
৬১. রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা

৭. কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
৬২. কৃষি প্রশিক্ষণ
৬৩. কৃষকদের বীজ সহায়তা
৬৪. সার ও কৃষি উপকরণে সরকারি সহায়তা
৬৫. সেচ সুবিধার উন্নয়ন
৬৬. গাছ লাগানো ও বনায়ন
৬৭. মৎস্য চাষে সহায়তা
৬৮. প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন
৬৯. পরিবেশবান্ধব কৃষি কার্যক্রম

৮. দুর্যোগ ও পুনর্বাসন
৭০. জরুরি ত্রাণ বিতরণ
৭১. বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তা
৭২. ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগে সহায়তা
৭৩. আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় সহযোগিতা
৭৪. দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন
৭৫. দুর্যোগ প্রস্তুতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ

৯. নাগরিক ও ডিজিটাল সেবা
৭৬. ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার
৭৭. জন্মনিবন্ধন
৭৮. মৃত্যুনিবন্ধন
৭৯. নাগরিক সনদ প্রদান
৮০. বিভিন্ন অনলাইন সেবা
৮১. সরকারি সেবা পেতে আবেদন ও তথ্যপ্রাপ্তিতে সহযোগিতা

উল্লেখ্য, তালিকাভুক্ত সব সেবা বা প্রকল্প প্রত্যেক ইউনিয়নে সরাসরি চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কিছু সেবা ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়ন করে, কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা বা সমন্বয় করে এবং কিছু নির্দিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কোন ইউনিয়নে কোন কর্মসূচি চালু আছে, তা সরকারি নথি দেখে যাচাই করা প্রয়োজন।

এবার জনগণের মূল প্রশ্নগুলো হলো:

১. গত পাঁচ বছরে প্রতিটি ইউনিয়নে কোন কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে?
২. কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে?
৩. সরকারি ভাতা ও সহায়তার প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা কোথায়?
৪. রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, ড্রেন ও অন্যান্য উন্নয়নকাজের ব্যয়ের হিসাব কোথায়?
৫. যাঁরা সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাঁরা সবাই কি তা পেয়েছেন?
৬. প্রকল্পের টাকা ও সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হয়েছে কি?
৭. চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট পরিষদ কি নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করেছেন?

যাঁরা আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান, তাঁদের প্রতি আহ্বান:

আগে নিজের ইউনিয়নের কাজের হিসাব প্রকাশ করুন। জনগণকে জানান, কত বরাদ্দ পেয়েছেন, কত টাকা ব্যয় করেছেন, কী উন্নয়ন করেছেন এবং কতজন মানুষকে সরকারি সেবা পেতে সহযোগিতা করেছেন। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের নথি, ব্যয়ের বিবরণ ও উপকারভোগীদের তথ্য আইনসম্মতভাবে প্রকাশ করুন।

ভোটের সময় সামান্য টাকা দিয়ে মানুষের ভোট কেনার চেষ্টা করবেন না। জনগণ টাকা নয়, জবাবদিহি চায়। প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের প্রমাণ চায়।

ফেঞ্চুগঞ্জের পাঁচ ইউনিয়নের জনগণ আর অন্ধকারে থাকতে চায় না।

আমরা চাই স্বচ্ছ হিসাব, সঠিক বরাদ্দ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সবার জন্য ন্যায্য সেবা। যাঁরা জনগণের সেবক হতে চান, তাঁরা জনগণের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকুন।

জনগণের টাকা জনগণের অধিকার। হিসাব দিতে হবে, জবাবদিহি করতে হবে।

এই দাবি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; এটি স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© All rights reserved © 2025-2026 www.skymediabd.com