
রাজশাহীতে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি, অর্থ দাবি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের কেউ কেউ।
অভিযোগে দৈনিক উপচার পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলী, মাজহারুল ইসলাম চপল ও তন্ময় দেবনাথের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের সবকটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখানো এবং অর্থ দাবি করার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি অর্থ দাবির একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথাও জানা গেছে। তবে অডিওটির উৎস, এতে কোনো ধরনের সম্পাদনা হয়েছে কি না এবং কথোপকথনে যাদের কণ্ঠ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া নুরে ইসলাম মিলন ও মাজহারুল ইসলাম চপলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা থাকার দাবিও করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে প্রতারণা ও চেকসংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগের প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে আদালতের নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গণমুক্তি পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরোর দায়িত্বে থাকা মাজহারুল ইসলাম চপলের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানীকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম চপল ওই সংবাদটি প্রকাশের কথা স্বীকার করেন। তবে প্রতিবেদনে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং সেগুলো কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।
একই বিষয়ে রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক উপচার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরে ইসলাম মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদের পক্ষে তার কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।
তবে ওই তথ্য-প্রমাণের ধরন কী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না এবং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তি কী—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও দৈনিক উপচার পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. সুরুজ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলার কথা জানান।
পরে তার পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রেসক্লাবে সাক্ষাতে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।
স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করলে এতে পুরো সাংবাদিকতা পেশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের বাইরে রেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই, পেশাগত পরিচয়ের বৈধতা পরীক্ষা এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা নথি ও তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।