
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ইশবপুর ও ভূরকী গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে দুই গ্রামের অনেক বাড়ি এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে ইশবপুর গ্রামের দুই ভাইকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন ইশবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মস্তানের ছেলে আব্দুল মন্নান সরকার ও তাজ মিয়া।
ভূরকী ও ইশবপুর গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে আহত ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষে ভূরকী গ্রামের মদরিছ আলীর ছেলে কবির আলী বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৭।
আটক দুইজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন—ইশবপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ওলিউর রহমান জনি (৩৫), আব্দুল মস্তানের ছেলে তাজ উদ্দিন (৫৫), আব্দুল কালামের ছেলে বাচ্চু (৫০), মৃত আবরু মিয়ার ছেলে সফির মিয়া (৬৫), বাদশা মিয়ার ছেলে আব্দুল গফ্ফার (৩৫), আব্দুল মস্তানের ছেলে আব্দুল হান্নান সরকার (৬৫), আব্দুস সালামের ছেলে সেজু (২৫), বাচ্চু মিয়ার ছেলে পারভেজ (২৫), আব্দুল মন্নানের ছেলে বাবলু (২৩), আনা মিয়া মেম্বারের ছেলে আওলাদ (৫০), আছাবরের ছেলে আখতার হোসেন (২৮), আলী হোসেন (৩৭), মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া (৪৫), আব্দুল মন্নান সরকারের ছেলে মিজান (২২), কুরশিদের ছেলে সমুজ (৪৫), মৃত আলকাছ আলীর ছেলে কয়ছর (৩০) ও আলমাছ আলীর ছেলে আল-আমিন (২৮)।
এদিকে আহত ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার খোঁজ নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তখন এর দায়ভার প্রশাসনকে বহন করতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে হামলার জন্য ইশবপুর গ্রামের ওলিউর রহমান জনির নেতৃত্বে একদল লোককে দায়ী করা হয়েছে। তবে এটি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষ মামলা করেছে। ঘটনার পর প্রথমে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে মামলার এজাহারে তাদের আসামি করা হলে ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার দুপুরে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভূরকী ও ইশবপুর গ্রামবাসীর মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভূরকী বাজার এলাকায় ভূরকী গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া ও ইশবপুর গ্রামের সফির আলীর লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।