
সিলেটের ওসমানীনগরে এক সিএনজি চালকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মোহাম্মদ শিপন আহমদ (২৫)। তিনি পেশায় সিএনজি চালক ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বেগমপুর থেকে চাতলপাড়গামী সড়কের কেশবখালী নদীর দক্ষিণ পাড়ে একজন অজ্ঞাত পুরুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওসমানীনগর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত শিপন আহমদ উপজেলার রাইকধারা (গাংপাড়) এলাকার আশরফ আলী ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ১৩ ডিসেম্বর শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে শিপন তার বড় বোনের ওয়ান টেস্ট সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরিবারের ধারণা ছিল, তিনি ভাড়া নিয়ে কোথাও গেছেন, কিন্তু রাতভর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে রবিবার সকালে কেশবখালী নদীর দক্ষিণ পাড়ে তার জখমকৃত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে দেখা যায়, নিহতের মুখের বাম পাশে কানের নিচে একটি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং বুকের বাম পাশে দুটি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা সিএনজি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করেছে।
নিহতের বড় ভাই সুমন মিয়া এবং বড় বোন শাবানা বেগম বলেন, “আমার ভাইয়ের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। আমরা দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল হাসান ভূইয়া ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
পুলিশ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত তদন্তে দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। স্থানীয়রা শিপন আহমদের হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত শোকজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।