
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে পৌরসভার শান্তিনগর বাজারের (হাসপাতাল পয়েন্ট) ছিক্কা মসজিদ মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ করেই মার্কেটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য পদার্থ ও ঘনবসতিপূর্ণ দোকানঘর থাকার কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত পুঁজি মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। একাধিক ব্যবসায়ী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমাদের দোকানে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ছিল, সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।” তারা আরও জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির অভিযোগ এনে তাদের অফিস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।
শান্তিনগর বাজার তদারক কমিটির সেক্রেটারি বিলাল আহমদ বলেন, “হঠাৎ এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি দোকানের সবকিছু পুড়ে গেছে। সময়মতো ফায়ার সার্ভিস উপস্থিত হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যেত। কিন্তু তারা বিভিন্ন অজুহাতে ঘটনাস্থলে আসেনি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস সেতুর অজুহাত দেখিয়ে ঘটনাস্থলে যায়নি, আর বিশ্বনাথ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এদিকে জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহম্মদ মুর্শেদ এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হেলিপ্যাড এলাকার বেইলি সেতুটি ছোট হওয়ায় আমাদের বড় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে ওই পাশে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা দ্রুত বিশ্বনাথ ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং তাদের ঘটনাস্থলে যেতে অনুরোধ জানাই। তারা পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়।”
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি উঠেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাজার এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।