
ভারতের রাজস্থানের আজমেরে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গীর অব্যাহত কটূক্তি ও মানসিক চাপে নিজের তিন বছরের কন্যাকে হ্রদে ফেলে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই নারীকে পুলিশ আটক করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী অঞ্জলি (ছদ্মনাম প্রিয়া) প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আজমেরে এসে প্রেমিক আলকেশের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। হোটেল রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত অঞ্জলির মেয়েকে নিয়েই আলকেশ প্রায়ই কটূক্তি করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি চরম পদক্ষেপ নেন।
ঘটনার দিন রাতে অঞ্জলি প্রথমে মেয়েকে লোরি শুনিয়ে ঘুম পাড়ান। এরপর শিশুটিকে নিয়ে আনা সাগর লেকের ধারে যান। হঠাৎ করেই কন্যাকে হ্রদে ফেলে দেন তিনি। পরে অভিনয় করতে থাকেন যে, শিশুটি নাকি “হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে গেছে”।
মঙ্গলবার গভীর রাতে টহলরত পুলিশ সদস্য হেড কনস্টেবল গোবিন্দ শর্মা ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, হাঁটার সময় মেয়ে হারিয়ে গেছে। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ৩০ মিনিটে শিশুকে ফেলে আসার পর অঞ্জলিকে একা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে। এতে সন্দেহ দানা বাঁধে পুলিশের মনে।
পরদিন বুধবার সকালে হ্রদ থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মৃতদেহ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অঞ্জলি ভেঙে পড়েন এবং স্বীকার করেন যে তিনি কন্যাকে নিজেই হ্রদে ফেলে হত্যা করেছেন।
খ্রিস্টানগঞ্জ থানার পুলিশ অঞ্জলিকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি পুলিশ খতিয়ে দেখছে, আলকেশ এ ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত ছিলেন কিনা।