চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতি উন্মোচন করতে গিয়ে দেশের সাংবাদিকরা চরম ঝুঁকি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর গাজীপুর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করার ঘটনা সারা দেশে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। হত্যার আগে তিনি ফেসবুক লাইভে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের ফলে গত এক বছরে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার জনে।
সাত মাসে ২৭৪টি হামলা
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ২৭৪টি হামলার ঘটনায় ১২৬ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। একই সময়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ২০ জন, প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন ৩৪ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ জন, এবং অন্তত ২২টি মামলায় ৯২ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩–এর অধীনে অন্তত ১৬টি মামলায় ১২ জন গ্রেপ্তার এবং ২৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গুরুতর সহিংসতার শিকার আরও সাংবাদিক
টিআইবি, অধিকারের প্রতিবেদন ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য বলছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত একাধিক সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম, তারাকান্দা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি স্বপন কুমার ভদ্র এবং সাংবাদিক রাহনুমা সারাহ। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিক তলব
নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশের ঘুষসংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলা ট্রিবিউন–এর রূপগঞ্জ প্রতিনিধি লিখন রাজকে তলব করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি তথ্য যাচাইয়ের জন্য, তবে সাংবাদিক মহলে এ ঘটনাও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সংগঠনগুলোর উদ্বেগ
নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। নোয়াব মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি হামলা। তারা অবিলম্বে এসব হামলার দায়ীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।