আজকে আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন ইতিহাস বিকৃতির নতুন নতুন প্রয়াস চলছেই। আর সেই প্রয়াসের হোতা আবার আমাদের কাছে এসে নীতি শোনাতে আসে—যার হাতে আমাদের অতীত রক্তে ভেজা!
সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বললেন, “ইসলাম বলেছে, হৃদয় পরিষ্কার করতে। আপনারা আপনাদের হৃদয় পরিষ্কার করুন। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
শুনে বিস্ময় তো নয়—রীতিমতো ধিক্কার জাগে! ১৯৭১ সালে এই পাকিস্তানই ইসলামকে মুখোশ করে, আমার মা-বোনের ওপর চালিয়েছে পাশবিক নির্যাতন, চালিয়েছে গণহত্যা। আর আজ সেই রাষ্ট্র আমাদের হৃদয় পরিষ্কার করতে বলে?
প্রশ্ন করছি—কে তাদের এই অধিকার দিয়েছে?
তারা আজও জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি, একটিবারের জন্যও স্বীকার করেনি সেই ভয়াবহ ইতিহাসের দায়। বরং গা বাঁচিয়ে ইতিহাস মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রেই তারা ব্যস্ত। অথচ এই দেশের কিছু রাজনৈতিক দল, নিজেদের স্বার্থে, সেই অপরাধী রাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত!
ধর্ম কখনো হত্যার অনুমতি দেয় না। ইসলাম কখনো নারী নির্যাতনকে ‘গণিমতের মাল’ বলে বৈধতা দেয় না। কিন্তু পাকিস্তান তা-ই করেছে। ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে, আমরা এখনো সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ আজ আবার তারা ধর্মের নামে আমাদেরকে জ্ঞান দেয়?
তাদের ঔদ্ধত্য এখানেই শেষ নয়—পাকিস্তানের কিছু প্রাক্তন রাজনীতিক এখনো বলে, “বাংলাদেশ একদিন আবার পাকিস্তানের সঙ্গেই মিলবে!” এ শুধু উন্মাদনা নয়, এটা আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের চরম অপমান।
তাই আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই:
❝ক্ষমা চাইতে হবে—নাকে খত দিয়ে। বিশ্ব দরবারে মাথা নিচু করে। তার আগে কোনো সম্পর্ক নয়, কোনো বন্ধুত্ব নয়, কোনো সহাবস্থান নয়।❞
ইতিহাস ভুলে গেলে জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। আজ আমরা যদি পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক নাটক মেনে নেই, তবে আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা কী বার্তা পৌঁছাবো? যে জাতি লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সে জাতি কি এত সহজে ইতিহাস বিস্মৃত হবে?
না, আমরা ভুলবো না।
আমরা মনে রাখবো—৭১ আমাদের রক্তের ইতিহাস। আমরা মনে রাখবো মা-বোনের কান্না, বধ্যভূমির আর্তনাদ। আর আমরা সেই ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষা করবো—যতদিন বাংলাদেশ আছে, ততদিন।
জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক!
মেহরাব হোসেন জুনেল
সাবেক সহ-সভাপতি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ।