সিলেটের বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল করিমের নেতৃত্বে সাংবাদিক আব্দুস সালাম মুন্না ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বনাথের গাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাংবাদিক আব্দুস সালাম মুন্না বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্বনাথ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মৃত আখরম উল্লাহর ছেলে আব্দুল করিম, আব্দুর রহিম, তাঁর স্ত্রী মিনারা বেগম এবং একই গ্রামের আব্দুল হান্নানের স্ত্রী রুশনা বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা সাংবাদিক আব্দুস সালাম মুন্নার পরিবারের ভোগদখলীয় ভূমি থেকে তাঁদের অগোচরে বেশ কয়েকটি জলজ ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মুন্না গাছ কাটতে বাধা দিলে আব্দুল করিমের নির্দেশে অন্য অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আব্দুল করিম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিকবার কারাভোগের কথাও উল্লেখ করেছেন বাদী। বর্তমানে দল ক্ষমতায় না থাকলেও বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় বিরোধ সৃষ্টি ও মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল করিম। তিনি বলেন, ‘আমি কারও ওপর হামলা করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’ আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি কিংবা সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান অভিযোগ দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’