দেশে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসা, মসজিদ ও হাফিজখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত কয়েক মাসে সারা দেশে শতাধিক শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণের পর ১৪ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আরও তিন শিশুকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়ে দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় ১১৫ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচটি ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুরা প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা পরিচিতজনের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে আসা শিশুদেরও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা গোপন রাখতে এবং কাউকে কিছু না বলতে হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেক শিশু পরিবারের সদস্যদের কাছেও নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে সাহস পায় না।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি শিশুর নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ, শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা এবং মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। মাদরাসা, মসজিদ, হাফিজখানা কিংবা অন্য যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নিপীড়ন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।