মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, দুটি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণ বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বড়লেখা থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকার বাসিন্দা সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন অটোরিকশায় গ্যাস নিতে ঘরে তালা দিয়ে বাইরে যান। এ সময় চোরেরা ঘরের পেছনের জানালার সিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওয়ারড্রপে রাখা তাঁর ভাবির স্বর্ণের গলার হার, কানের দুল ও দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর বড়লেখা থানায় দণ্ডবিধির ৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০ অক্টোবর দক্ষিণভাগ এলাকা থেকে জিল্লুর মিয়া (২৬), মনির হোসেন (৩৩) ও আব্দুল আহাদকে (৪৪) গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পারভেজ আহমদ (২৭) নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণ বিক্রির অর্থ হিসেবে শনাক্ত ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, পারভেজ আহমদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর সহযোগী হিসেবে শনাক্ত সুমন আহমদকে (৩৮) জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদিঘিরপাড় এলাকার রহমান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় পুষ্পা জুয়েলার্সে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সাইদুর রহমান (২৩) নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি কানের দুল ও একটি গলার হার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার মামলার বাদী শনাক্ত করেন। পরিমাপ করে এসব অলংকারের মোট ওজন পাওয়া যায় ২ ভরি ১১ আনা ৯ পয়েন্ট।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন, দুটি কানের দুল, একটি গলার হার ও স্বর্ণ বিক্রির অর্থ হিসেবে শনাক্ত ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার ছয়জনকে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
বড়লেখা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, চুরি প্রতিরোধ ও চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।