বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত কয়েক বছরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, আইনি হয়রানি এবং কিছু ক্ষেত্রে হত্যার ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন নিহত হন এবং চারজনের মরদেহ রহস্যজনক পরিস্থিতিতে উদ্ধার হয়। ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে মিডিয়া ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট (মিড)-এর পর্যবেক্ষণে অন্তত ১৬২ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, হামলা, হুমকি ও আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। আগস্ট মাসে এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।
ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট-এর আংশিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং পেশাগত কাজের বাইরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো বলছে, দুর্নীতি, অপরাধ বা সরকারি ব্যর্থতার সংবাদ প্রকাশ করলে অনেক সময় হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। পরিবারের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। আদালতেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পরও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা থেমে নেই। কিছু ক্ষেত্রে বিএনপি ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময়ের মতোই আইনি হয়রানি ও মামলার চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে।
সম্প্রতি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় ও বিচারের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায় না। ভয়ের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে চান না বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিচারহীনতা অব্যাহত থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা আরও সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।