বাংলাদেশে সরকার বদলেছে, বদলেছে ক্ষমতার কেন্দ্রও। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ শাসনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় থাকা মানুষের কাছে এটি ছিল নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—সরকার বদলালেই কি মানুষের জীবন বদলায়?
ক্ষমতায় আসার আগে বিএনপি জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পর থেকেই সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোথাও চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ, কোথাও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, কোথাও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ। একই সময়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি করছে।
সরকার বলছে, তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তারপরও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—পরিবর্তনটা আসলে কোথায়?
চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি, অভিযোগ কেন থামছে না?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন, নির্মাণকাজ, বাজার ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল এই সংস্কৃতির অবসান হবে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও বিভিন্ন জায়গায় দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
অভিযোগগুলোর সবগুলো যে সত্য, তা বলা যাবে না। আবার সব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই।
এখানে সরকারের দায়িত্ব পরিষ্কার। যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তদন্ত করে তা পরিষ্কার করতে হবে। আর অভিযোগ সত্য হলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কারণ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করব’ বলা সহজ। ক্ষমতায় থাকার সময় নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই আসল পরীক্ষা।
টেন্ডারবাজি ও দখল নিয়ে পুরোনো আশঙ্কা
সরকারি কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির অন্যতম পুরোনো অভিযোগ।
ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পরিবর্তন ঘটলেও যদি পদ্ধতিটা একই থাকে, তাহলে জনগণের কাছে সরকার পরিবর্তনের অর্থ খুব বেশি থাকে না।
মানুষ জানতে চায়—সরকারি কাজ কি যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাবে, নাকি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ ভাগ হবে?
কোনো ঠিকাদার কি কাজ পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক সুপারিশ নিতে বাধ্য হবে?
ব্যবসা করতে গেলে কি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের সামনে পরিষ্কার করা দরকার।
সরকার চাইলে প্রতিটি বড় সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার, ব্যয়, ঠিকাদার ও কাজের অগ্রগতি প্রকাশ করতে পারে। এতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও অনেকটাই যাচাই করা সম্ভব হবে।
আইনশৃঙ্খলা: মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি আইনশৃঙ্খলা।
খুন, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, দখল, সন্ত্রাস কিংবা গুম—যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে মানুষের প্রথম প্রত্যাশা একটি বিষয়: আইন সবার জন্য সমান হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পুলিশকে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
কিন্তু বাস্তবে এই নীতি কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই দেখার বিষয়।
মানুষ যদি মনে করে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়, তাহলে আইনের প্রতি আস্থা দুর্বল হবে।
আর যদি সরকার নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সেটিই হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন অপরাধ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু এমন নির্দিষ্ট দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান না থাকায় এটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যায় না।
সরকারের উচিত অপরাধের পরিসংখ্যান নিয়মিত প্রকাশ করা। তাহলেই মানুষ বুঝতে পারবে—অপরাধ বাড়ছে, নাকি কমছে।
দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষ
রাজনীতির বড় বড় বিতর্কের বাইরে সাধারণ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে বাজারদর।
চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, সবজি, ওষুধ—প্রায় প্রতিটি খাতেই মানুষের ব্যয়ের চাপ রয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছিল বলে সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কিছুটা কমলেও মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি দূর হয়নি।
সরকারের জন্য এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের প্রকৃত আয়।
কারও মাসিক আয় যদি ৩০ হাজার টাকা হয় এবং কয়েক বছর পরও তার আয় প্রায় একই থাকে, অথচ খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে তার জীবনযাত্রার মান কমে যায়।
এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর।
তারা না পারছে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে, না পারছে আয় বাড়াতে।
অনেক পরিবার সঞ্চয় ভাঙছে। অনেকে ঋণ করছে। কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছে। কেউ সন্তানের শিক্ষা বা অন্যান্য খরচ কমানোর চেষ্টা করছে।
এই মানুষের কাছে অর্থনীতির বড় বড় পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাসের শেষে হাতে কত টাকা থাকে।
আওয়ামী লীগ আমলের উন্নয়ন: সব কি ধ্বংস হয়ে যাবে?
বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা উন্নয়ন প্রকল্প।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। সড়ক, সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়েছে।
কিন্তু এসব প্রকল্পের পাশাপাশি দুর্নীতি, অর্থপাচার, প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয়, ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগও ছিল।
অর্থাৎ আগের সরকারকে মূল্যায়ন করতে গেলে উন্নয়ন ও অনিয়ম—দুই দিকই দেখতে হবে।
বর্তমান সরকারেরও একই নিয়ম মেনে চলা উচিত।
কোনো প্রকল্পে দুর্নীতি হয়ে থাকলে তদন্ত করতে হবে। জনগণের টাকা অপচয় হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কিন্তু কোনো প্রকল্প শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল বলে বাতিল করা হলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।
একটি সেতু আওয়ামী লীগ বানিয়েছে কি বিএনপি বানিয়েছে—সাধারণ মানুষের কাছে সেটি মূল প্রশ্ন নয়।
মূল প্রশ্ন হলো—সেতুটি প্রয়োজনীয় কি না, জনগণ ব্যবহার করছে কি না এবং নির্মাণে জনগণের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না।
উন্নয়ন প্রকল্পের বিচার হওয়া উচিত তথ্য ও অর্থনৈতিক যুক্তিতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় নয়।
দুর্নীতি: আগের সরকারের হিসাব হবে, নতুন সরকারেরও হবে
বিএনপি সরকার আগের সরকারের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অনিয়ম তদন্তের কথা বলছে।
এটি হলে জনগণ স্বচ্ছ হিসাব জানতে পারবে—কোথায় কত টাকা অপচয় হয়েছে, কারা লাভবান হয়েছে এবং রাষ্ট্রের কী ক্ষতি হয়েছে।
কিন্তু এখানেই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় নৈতিক পরীক্ষা।
আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত হবে, কিন্তু বর্তমান সরকারের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সেটিও কি একইভাবে তদন্ত হবে?
জনগণ এই প্রশ্নের উত্তর চায়।
কারণ একটি সরকারের দুর্নীতি অন্য সরকারের দুর্নীতির বৈধতা তৈরি করে না।
‘ওরা করেছে’—এই যুক্তিতে ‘আমরাও করব’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্তি কবে?
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হলো ক্ষমতার সঙ্গে প্রতিহিংসা।
এক দল ক্ষমতায় গেলে আগের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
সরকার বদলালে আবার নতুন করে মামলা হয়।
এক সরকারের সময়ে বাতিল প্রকল্প অন্য সরকারের সময়ে পুনরায় পর্যালোচনা হয়।
কখনও তদন্ত প্রয়োজনীয়। কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ ওঠে।
এভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অস্ত্র হয়ে ওঠে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধ করলে বিচার হবে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অপরাধী হয়ে যাবে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অপরাধ করেও রেহাই পাবে—দুই ব্যবস্থাই বিপজ্জনক।
বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি ব্যবস্থা চায় যেখানে সরকার পরিবর্তন হবে নির্বাচনের মাধ্যমে, প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যমে নয়।
তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
তারেক রহমানের সরকারের সামনে এখন বড় সুযোগও আছে, বড় ঝুঁকিও আছে।
তিনি যদি সত্যিই প্রমাণ করতে পারেন যে তার দলের কেউ অপরাধ করলে রাজনৈতিক পরিচয় তাকে রক্ষা করবে না, তাহলে মানুষের আস্থা বাড়বে।
যদি দুর্নীতির অভিযোগে নিজের দলের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে সেটি হবে সরকারের জন্য শক্তিশালী বার্তা।
যদি চাঁদাবাজি বন্ধ হয়, বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে, আইনশৃঙ্খলা উন্নত হয় এবং প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তাহলে মানুষ পরিবর্তন অনুভব করবে।
কিন্তু যদি সরকার পরিবর্তনের পরও একই ধরনের অভিযোগ চলতে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—তাহলে পরিবর্তনটা কোথায়?
জনগণের ধৈর্যেরও সীমা আছে
রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়।
কেউ উন্নয়নের কথা বলে।
কেউ দুর্নীতি বন্ধের কথা বলে।
কেউ কর্মসংস্থানের কথা বলে।
কেউ দ্রব্যমূল্য কমানোর কথা বলে।
কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর যদি সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তব জীবনে দেখা না যায়, তাহলে মানুষের হতাশা বাড়ে।
আজ বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই চুপচাপ চাপ সামলাচ্ছে।
নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা আরও কঠিন।
তাদের অনেকের রাজনৈতিক প্রভাব নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ নেই, বড় কোনো সংগঠন নেই।
তাদের একমাত্র পরিচয়—তারা দেশের সাধারণ নাগরিক।
রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের সময় এই মানুষগুলোর কথাই সবচেয়ে বেশি শোনা দরকার।
শেষ কথা: মানুষ দল নয়, পরিবর্তন চায়
বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান শুনতে চায় না।
তারা চায় নিরাপদ জীবন।
চায় সাশ্রয়ী বাজার।
চায় ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা।
চায় রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই বিচার।
চায় ব্যবসা করতে চাঁদা দিতে না হয়।
চায় সন্তানদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
চায় উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের টাকা লুট না হোক।
চায় কোনো সরকার নিজের দলের অপরাধীকে রক্ষা না করুক।
আর সবচেয়ে বেশি চায়—রাষ্ট্র যেন কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি না হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উন্নয়ন হয়েছে—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি সেই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও ছিল।
বিএনপি সরকার নতুন—এ কথাও সত্য। কিন্তু নতুন সরকার বলেই তার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না, এমন নয়।
বরং ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।
কারণ জনগণ আগের সরকারের হিসাবও চায়, বর্তমান সরকারের হিসাবও চায়।
বাংলাদেশের মানুষ আর এমন রাজনীতি দেখতে চায় না যেখানে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনগণের কথা বলা হয়, আর ক্ষমতায় যাওয়ার পর দলীয় স্বার্থ সামনে চলে আসে।
মানুষ জানতে চায়—কবে শেষ হবে চাঁদাবাজি, দখল, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এই চক্র?
কবে এমন একটি বাংলাদেশ হবে, যেখানে সরকার বদলাবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে না?
শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের সরকারের সাফল্য কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে নির্ধারিত হবে না।
নির্ধারিত হবে বাজারের দামে।
নির্ধারিত হবে আইনশৃঙ্খলায়।
নির্ধারিত হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থায়।
নির্ধারিত হবে মানুষের আয় ও জীবনযাত্রায়।
আর সবচেয়ে বড় কথা—নির্ধারিত হবে ক্ষমতাসীন দলের মানুষ আর সাধারণ মানুষের জন্য আইন একইভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তার ওপর।
বাংলাদেশের মানুষ হয়তো আরেকটি সরকার পরিবর্তনের অপেক্ষায় নেই।
তারা অপেক্ষা করছে একটি সত্যিকারের পরিবর্তনের।