রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পথরোধ করে মোঃ খাইরুল ইসলাম (৩৪) নামে এক যুবককে মারধর, তাঁর ব্যবহৃত স্মার্টফোন ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ কালু (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগী গোদাগাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, জিডি ট্র্যাকিং নম্বর PT54G1 এবং জিডি নম্বর ২২, যা গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গোদাগাড়ী থানায় করা হয়।
অভিযোগে খাইরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি মাদারপুর এলাকা থেকে পায়ে হেঁটে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী গ্রামের গোদাগাড়ী খাদ্য গোডাউনের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে মাদারপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ কালু তাঁর পথরোধ করেন।
এ সময় কালু তাঁকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খাইরুল ইসলাম গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে একপর্যায়ে কালু তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর পাশে থাকা একটি সিমেন্টের পিলার দিয়ে তাঁর কপাল ও হাতের কব্জিতে আঘাত করা হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় খাইরুল ইসলামের কপাল ও হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত ও নীলাফুলা জখম হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে কালু খাইরুল ইসলামের পকেটে থাকা একটি গ্যালাক্সি স্মার্টফোন ভেঙে ফেলেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ফোনটির আনুমানিক মূল্য ৫২ হাজার টাকা।
এছাড়া টানাটানির সময় তাঁর গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১২ হাজার টাকা, এবং ৫ আনা ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা, ঘটনাস্থলে পড়ে যায় এবং পরে সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন খাইরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শিশির ও মোঃ জসিমসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি থেকে সরে গিয়ে অভিযুক্ত কালু প্রকাশ্যে খাইরুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে খাইরুল ইসলাম গোদাগাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মোঃ রাকিবুর হাসান রকিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত মারধর, ফোন ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার হারিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।