খালেদা জিয়ার প্রতি আবেগ ও আনুগত্যের কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
একসময় রবি অফিসে অনেকেই বলতেন, দেখতে নাকি অনেকটা বেগম খালেদা জিয়ার মতো। এমনকি চুল বাঁধার ধরনেও ছিল তাঁর অনুকরণ। যদিও নিজের কাছে কখনোই সেই তুলনা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্যের আলোচনায় যাঁকে অন্যতম সুন্দরী নারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের তুলনা করাকে তিনি বরাবরই অন্যদের চোখের ভুল বলে মনে করেছেন।
তবে আজ বাংলাদেশের রাজনীতি হারিয়েছে একজন অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্বকে। একই সঙ্গে বিএনপি হারিয়েছে এমন একজন নেত্রীকে, যাঁর প্রতি দলের বহু নেতাকর্মীর ছিল গভীর আবেগ ও নির্ভরতা। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেক মানুষের মধ্যে রুমিন ফারহানাও ছিলেন অন্যতম।
বিএনপির দুঃসময়ে দলের পক্ষে সরব ভূমিকা রাখা নেতাদের প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানার নাম বিশেষভাবে উঠে আসে। বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তিনি দলীয় অবস্থান তুলে ধরতে বিভিন্ন সময়ে সোচ্চার ছিলেন। দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকলেও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও আনুগত্য ছিল দৃঢ়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখক জানান, অনেক আগেই রুমিন ফারহানাকে স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই আবেগের জায়গা থেকে রুমিন বলেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ছেড়ে তিনি যেতে পারবেন না। তাঁর প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথাও প্রকাশ করেছিলেন।
লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও স্মৃতিই রুমিন ফারহানার কাছে খালেদা জিয়ার অবস্থানকে আরও বিশেষ করে তুলেছিল।
লেখকের মতে, বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে রুমিন ফারহানাকে দলীয় রাজনীতিতে এভাবে একা ছেড়ে দিতেন না। এখনো সময় আছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাইলে বিষয়টির একটি সম্মানজনক সমাধান করতে পারেন।
রুমিন ফারহানার জনপ্রিয়তার ধরনও অন্যদের চেয়ে কিছুটা আলাদা বলে মনে করেন লেখক। দল-মত নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও অনেকেই তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন এবং তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেন।
সবশেষে লেখকের প্রত্যাশা, বিএনপির রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার দীর্ঘদিনের ভূমিকা, ত্যাগ ও আনুগত্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। কারণ, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে যাঁরা দলের পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়।