
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এলপি গ্যাসের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সুনামগঞ্জ জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকটের ভোগান্তি বাড়ছে। সেই সুযোগে সরকার নির্ধারিত মূল্য আমলে না নিয়ে ইচ্ছে মতো দাম চড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরপরও পাওয়া যাচ্ছে না সিলিন্ডার গ্যাস।
সরকার এলপি গ্যাসের ভ্যাট প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। জেলার বিভিন্ন বাজারে দুই হাজার টাকায়ও সিলিন্ডার গ্যাস মিলছে না। গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করায় বেকায়দায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল।এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণে নয়, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে– সরবরাহ ও মজুতের সংকট এ কারণে। বাড়তি দামে কিনে তাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডার গ্যাস দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি জেলার দিরাই উপজেলা, জগন্নাথপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোনো দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস নেই। ১৫ দিন ধরে এসব দোকানে কোনো নতুন সিলিন্ডার আসছে না। ফলে জেলার উপজেলাগুলোর মফস্বলের বাজারগুলোতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
কাজল মিয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, অতিরিক্ত টাকা হলেও গ্যাস মিলছে না। টাকার কাছে গ্যাস সংকট বড় হয়েছে। গ্যাস ছাড়াই ১৫ দিন ধরে রান্নার কাজ চলছে।
এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীরা বলেন, ১৫ দিন ধরে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার আসেনি, তাই তারা গ্যাসশূন্য ব্যবসা করছেন। তিন হাজার কেন, পাঁচ হাজার টাকা হলেও গ্যাস দিতে পারছেন না।
গ্যাস সিলিন্ডারের কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানির শিডিউল অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হয়। রমজান মাসে কোম্পানির সরবরাহ একটু বাড়ানোর কথা; কিন্তু এখনও গ্যাস আসছে না। সাধারণ মানুষ গ্যাসের জন্য হাহাকার করছেন, তারা গ্যাস দিতে পারেন না।
গ্যাস সিলিন্ডারের একাধিক ক্রেতা বলেন, গ্যাসের সংকট এমন আকার ধারণ করেছে, কয়েক বাজার ঘুরে গ্যাস পাইনি, পরে এক দোকান থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডার নিয়ে এসেছি।
সরকার এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তারপর ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এতে বাজারে গ্যাসের দাম কমার কথা। বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না। এমনকি ভ্যাট প্রত্যাহারের কোনো প্রভাবও পড়েনি বাজারে, তার আগেই গ্যাস উধাও
সুনামগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, এ ব্যাপারে তারা নিয়মিত মনিটরিং চালাচ্ছেন। এ ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।